ইসলামের অভ্যুত্থানের প্রাথমিক কতিপয় শতাব্দীতে ইহা অতি দ্রুত উন্নতি করিয়াছিল । প্রত্যেক ধর্মমতের লোকদিগের মধ্য হইতে বহু সংখ্যক লোক—বিশেষভাবে খৃষ্টানদিগের বিরাট দল ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করিয়াছিল । তাহারা ঈসা (আঃ) সম্বন্ধে তাহাদের ভ্রমাত্মক বিশ্বাস সঙ্গে নিয়াই আসিয়াছিল । যেহেতু ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও পূর্ণ মর্ম তখনও তাহারা উপলদ্ধি করিয়া উঠিতে পারে নাই, সেহেতু ধর্মান্তরিত হওয়ার পরবর্তী কালে তাহাদের মিথ্যা ধারণা ও ভুল বিশ্বাস মুসলিম সাহিত্যে অনুপ্রবেশ করিয়াছিল । ইহার ফলে পরবর্তী কালে উহা মুসলমানগণের বিশ্বাসে প্রক্ষিপ্ত হইয়া গিয়াছিল । এই সকল বিশ্বাস বা ধারণা উদ্ভব করা হইয়াছিল ঈসা (আঃ)-কে অসাধারণ ব্যক্তিত্বে ভূষিত করার উদ্দেশ্যে— এমন ব্যক্তিত্বে যাহা মানবের গণ্ডীর উর্ধ্বে । হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে অজ্ঞতাপূর্ণ এই সমস্ত বিশ্বাস কুরআন করীম তফসীরাধীন এই সূরার মধ্যে ভাঙ্গিয়া চূর্ণবিচূর্ণ করিয়া দিয়াছে । এই সূরা এবং সূরা আলে ইমরান হযরত ইয়াহ্ইয়া এবং ঈসা (আঃ)-এর মধ্যে তুলনা স্থাপন করিয়া পরোক্ষভাবে মনের মধ্যে চিন্তার যোগান দিতে চাহিয়াছে যে, হযরত ঈসা (আঃ)-এর মধ্যে এমন কোন কিছুই ছিল না যাহা তাঁহাকে অন্যান্য সকল নবী হইতে পৃথক করিয়া দিয়াছিল । (দেখুন দি লারজার এডিশন অব দি কমেন্টারী, পৃঃ ১৫৬৫)।