১৩২৩

ইউরোপীয় সমালোচকদের কেহ কেহ ‘আদ’ নামের কোন জাতি কখনও ছিল বলিয়াই অস্বীকার করিয়াছেন। তাহারা বলেন যে, এই পর্যন্ত আরবের প্রত্নতাত্বিক আবিষ্কারের মধ্যে এমন কোন উৎকীর্ণলিপি পাওয়া যায় নাই যাহাতে সেই দেশে ‘আদ’ নামীয় কোন মানবজাতির উল্লেখ আছে এবং ইহার উপর ভিত্তি করিয়াই এই সকল আপত্তি উত্থাপিত হইয়াছে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সময়ে আরবে প্রচলিত অতি জনপ্রিয় উপাখ্যানকেই কুরআনে পুনরারত্তি করা হইয়াছে। ভুল বুঝা-বুঝির উপরে ভিত্তি করিয়া এই আপত্তির উদ্ভব হইয়াছে। প্রকৃত পক্ষে মানবজাতি দুই রকম নাম দ্বারা পরিচিত হয়। একটি জাতীয় নাম আর একটি গোত্রীয় বা বংশীয় নাম। ‘আদ’ কোন একটি একক নাম নহে, কিন্তু কতগুলি গোত্রের সমষ্টিগত নাম যাহার বিভিন্ন শাখা বিভিন্ন যুগে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হইয়াছিল। এই শাখাগুলি তাহাদের শাখা সংক্রান্ত শীলালিপি রাখিয়া গিয়াছে। প্রকৃতপক্ষে তাহাদের সকল গোত্রই ‘আদ’ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাস্তব ঘটনা যাহা প্রাচীন ভূগোলের পুস্তকাদি হইতে পাওয়া যায় তাহা হইল ‘আদ’ নামীয় এক জাতি অবশ্যই বাস করিত। গ্রীকদের সংকলিত ভৌগলিক গ্রন্থাবলীতে পাওয়া যায় যে, খৃষ্টপূর্ব সময়ে ইয়ামেন রাজ্য ‘আদরামিতাই’ গোত্র দ্বারা শাসিত হইত। ইহারা ‘আদ’ ব্যতীত অন্য কেহ ছিল না; তাহাদিকেই কুরআন করীমে ’আদ এরাম’ নামে উল্লেখ করা হইয়াছে। গ্রীকভাষায় ভাষান্তরিত হওয়ার কারণে ‘আদ এরাম’ ‘আদরাম’ অপভ্রংশের রূপ নিয়াছে (আল্‌ আরাব কাবলাল ইসলাম) কুরআন করীমে উল্লেখিত ‘আদ’ জাতিকে এরাম বলা হইত। এই এরাম ‘আদ’ জাতিরই এক শাখা বা গোত্র, যাহা এক প্রতাপশালী রাষ্ট্রের অধিকারী ছিল। তাহাদের রাজত্ব খৃষ্ট-পূর্ব পাঁচশত অব্দ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাহাদের ভাষা ছিল এরামাইক যাহা হিব্রূ ভাষার সমজাতীয়। এরামাইক রাজ্য সেমেটিক রাষ্ট্রের পতনের পরে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং উহা সমস্ত মেসোপটেমিয়া, প্যালেষ্টাইন, সিরিয়া এবং ক্যালদিয়া (Chaldia) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা দ্বারাও এই রাষ্ট্রের চিহ্ন আবিষ্কৃত হইয়াছে (’দি লারজার এডিশন অব দি কমেন্টারী’ দ্রষ্টব্য)। নূহ্ (আঃ)-এর জাতির অব্যবহিত পরে ‘আদ’-এর হয় উত্থান (৭ঃ৭০)। তাহারা উচ্চ স্থানসমূহে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করিয়াছিল (২৬ঃ১২৯)। আরবদেশে এই সকল বিশাল ইমারতের ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান। এই জাতির ইতিহাস এখন প্রচ্ছন্নতায় ঢাকা পড়িয়া রহিয়াছে, শুধু তাহাদের স্থাপত্যের অট্টালিকাগুলির ভগ্নাবশেষই নজরে পড়ে (৪৬ঃ২৬)। তাহারা যে অঞ্চলে বসবাস করিত উহাকে
‘আহ্‌কাফ’ বলা হয় (৪৬ঃ২২)। আহ্‌কাফের শাব্দিক অর্থ সর্পিল আকারে আঁকাবাকা বালির পাহাড়সমূহ। উহা আরবের দুইটি অংশের নামঃ দক্ষিণাঞ্চলকে দক্ষিণ ‘আহ্‌কাফ’ এবং উত্তরাঞ্চলকে উত্তর ‘আহ্‌কাফ’ বলা হয়। এই ভূভাগদ্বয় খুবই উর্বর, কিন্তু মরুভূমির নিকটে অবস্থিত হওয়ায় মরু-ঝঞ্ঝাবাত্যায় প্রবাহিত স্তুপীকৃত বালুকারাশি দ্বারা এই অঞ্চলে বালির পাহাড় বা টিলা গড়িয়া উঠে। এই সকল বালির পাহাড় সম্ভবতঃ ঝঞ্ঝাবাত্যাপূর্ণ ধূলিঝড়ের কারণে সৃষ্টি হইয়াছিল যাহা ‘আদ’ জাতির উপর আযাব রূপে পতিত হইয়াছিল। তাহারা প্রচণ্ড বায়ু-প্রবাহের তীব্র ঝড়ের আঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছিল এবং তাহাদের বাত্যাবিধ্বস্ত প্রধান প্রধান শহরগুলিকে স্তুপীকৃত ধূলা ও বালুকারাশির টিলার নিচে ভূগর্ভস্থ করিয়া দিয়াছিল (৬৯ঃ৭-৮)।

Visitor Edits

December 29, 2025 10:19 amApproved
ইউরোপীয় সমালোচকদের কেহ কেহ ‘আদ’ নামের কোন জাতি কখনও ছিল বলিয়াই অস্বীকার করিয়াছেন। তাহারা বলেন যে, এই পর্যন্ত আরবের প্রত্নতাত্বিক আবিষ্কারের মধ্যে এমন কোন উৎকীর্ণলিপি পাওয়া যায় নাই যাহাতে সেই দেশে ‘আদ’ নামীয় কোন মানবজাতির উল্লেখ আছে এবং ইহার উপর ভিত্তি করিয়াই এই সকল আপত্তি উত্থাপিত হইয়াছে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সময়ে আরবে প্রচলিত অতি জনপ্রিয় উপাখ্যানকেই কুরআনে পুনরারত্তি করা হইয়াছে। ভুল বুঝা-বুঝির উপরে ভিত্তি করিয়া এই আপত্তির উদ্ভব হইয়াছে। প্রকৃত পক্ষে মানবজাতি দুই রকম নাম দ্বারা পরিচিত হয়। একটি জাতীয় নাম আর একটি গোত্রীয় বা বংশীয় নাম। ‘আদ’ কোন একটি একক নাম নহে, কিন্তু কতগুলি গোত্রের সমষ্টিগত নাম যাহার বিভিন্ন শাখা বিভিন্ন যুগে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হইয়াছিল। এই শাখাগুলি তাহাদের শাখা সংক্রান্ত শীলালিপি রাখিয়া গিয়াছে। প্রকৃতপক্ষে তাহাদের সকল গোত্রই ‘আদ’ জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাস্তব ঘটনা যাহা প্রাচীন ভূগোলের পুস্তকাদি হইতে পাওয়া যায় তাহা হইল ‘আদ’ নামীয় এক জাতি অবশ্যই বাস করিত। গ্রীকদের সংকলিত ভৌগলিক গ্রন্থাবলীতে পাওয়া যায় যে, খৃষ্টপূর্ব সময়ে ইয়ামেন রাজ্য ‘আদরামিতাই’ গোত্র দ্বারা শাসিত হইত। ইহারা ‘আদ’ ব্যতীত অন্য কেহ ছিল না; তাহাদিকেই কুরআন করীমে ’আদ এরাম’ নামে উল্লেখ করা হইয়াছে। গ্রীকভাষায় ভাষান্তরিত হওয়ার কারণে ‘আদ এরাম’ ‘আদরাম’ অপভ্রংশের রূপ নিয়াছে (আল্‌ আরাব কাবলাল ইসলাম) কুরআন করীমে উল্লেখিত ‘আদ’ জাতিকে এরাম বলা হইত। এই এরাম ‘আদ’ জাতিরই এক শাখা বা গোত্র, যাহা এক প্রতাপশালী রাষ্ট্রের অধিকারী ছিল। তাহাদের রাজত্ব খৃষ্ট-পূর্ব পাঁচশত অব্দ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাহাদের ভাষা ছিল এরামাইক যাহা হিব্রূ ভাষার সমজাতীয়। এরামাইক রাজ্য সেমেটিক রাষ্ট্রের পতনের পরে প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং উহা সমস্ত মেসোপটেমিয়া, প্যালেষ্টাইন, সিরিয়া এবং ক্যালদিয়া (Chaldia) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা দ্বারাও এই রাষ্ট্রের চিহ্ন আবিষ্কৃত হইয়াছে (’দি লারজার এডিশন অব দি কমেন্টারী’ দ্রষ্টব্য)। নূহ্ (আঃ)-এর জাতির অব্যবহিত পরে ‘আদ’-এর হয় উত্থান (৭ঃ৭০)। তাহারা উচ্চ স্থানসমূহে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করিয়াছিল (২৬ঃ১২৯)। আরবদেশে এই সকল বিশাল ইমারতের ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান। এই জাতির ইতিহাস এখন প্রচ্ছন্নতায় ঢাকা পড়িয়া রহিয়াছে, শুধু তাহাদের স্থাপত্যের অট্টালিকাগুলির ভগ্নাবশেষই নজরে পড়ে (৪৬ঃ২৬)। তাহারা যে অঞ্চলে বসবাস করিত উহাকে ‘আহ্‌কাফ’ বলা হয় (৪৬ঃ২২)। আহ্‌কাফের শাব্দিক অর্থ সর্পিল আকারে আঁকাবাকা বালির পাহাড়সমূহ। উহা আরবের দুইটি অংশের নামঃ দক্ষিণাঞ্চলকে দক্ষিণ ‘আহ্‌কাফ’ এবং উত্তরাঞ্চলকে উত্তর ‘আহ্‌কাফ’ বলা হয়। এই ভূভাগদ্বয় খুবই উর্বর, কিন্তু মরুভূমির নিকটে অবস্থিত হওয়ায় মরু-ঝঞ্ঝাবাত্যায় প্রবাহিত স্তুপীকৃত বালুকারাশি দ্বারা এই অঞ্চলে বালির পাহাড় বা টিলা গড়িয়া উঠে। এই সকল বালির পাহাড় সম্ভবতঃ ঝঞ্ঝাবাত্যাপূর্ণ ধূলিঝড়ের কারণে সৃষ্টি হইয়াছিল যাহা ‘আদ’ জাতির উপর আযাব রূপে পতিত হইয়াছিল। তাহারা প্রচণ্ড বায়ু-প্রবাহের তীব্র ঝড়ের আঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছিল এবং তাহাদের বাত্যাবিধ্বস্ত প্রধান প্রধান শহরগুলিকে স্তুপীকৃত ধূলা ও বালুকারাশির টিলার নিচে ভূগর্ভস্থ করিয়া দিয়াছিল (৬৯ঃ৭-৮)।